Monday, May 26, 2025

ফেনীতে এবার বন্যা আশংকা কতটুকু

 ফেনী জেলায় ২০২৫ সালে বন্যার আশঙ্কা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম, তবে অতীত অভিজ্ঞতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সতর্ক থাকা প্রয়োজন।


🌧️ বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি (মে ২৬, ২০২৫):


আগামী সপ্তাহে ফেনীতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।


📊 অতীত বন্যার প্রেক্ষাপট:


২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, যেখানে ৭০,৪১৫টি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয় এবং প্রায় ৫৩৩.৫৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।  এই বন্যায় ২ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৭,৩৫০ পরিবার ঘরহীন হয়ে পড়ে। 


⚠️ সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রস্তুতি:


- ফেনীর নদ-নদীগুলোর পানি স্তর নজরে রাখা জরুরি, বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাতের সময়।

- স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।

- নিম্নাঞ্চলে বসবাসরতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।


✅ সারসংক্ষেপ:


বর্তমানে ফেনীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই, তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুতি গ্রহণ করলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব।



দেশের প্রেক্ষাপট ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জাতীয় সরকার গঠন কল্যাণজনক হতে পারে

 


✅ কেন জাতীয় সরকার কল্যাণজনক হতে পারে:


১। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনে:


   সব পক্ষের অংশগ্রহণ থাকলে সংঘাত বা সংঘর্ষ কমে।


২।গণআস্থা তৈরি হয়: 

   জনগণ মনে করে, দল নয়, রাষ্ট্রের স্বার্থ আগে দেখা হচ্ছে।


৩। সংবিধান সংস্কার, নির্বাচন ও বিচার সংস্কারে সহযোগিতা বাড়ে : 

   অনেক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়, যেমন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার।


৪। উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে একতা আনে: 

   বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে; অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়।




 *চ্যালেঞ্জ ও শর্ত:*


- রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা জরুরি

- ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা এড়াতে পরিষ্কার কাঠামো দরকার

- দীর্ঘ মেয়াদে নয়—অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য উপযোগী

- অসাংবিধানিক না হয়




 সারসংক্ষেপ:

 “জাতীয় সরকার রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনকালীন সঙ্কটে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হতে পারে, তবে সেটা হতে হবে সংবিধান ও জনআস্থার ভিত্তিতে।”


Sunday, May 25, 2025

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ ও বাংলাদেশে জাতীয় কবি নামে খ্যাত কাজী নজরুল ইসলাম

 

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ। তার মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।



তাঁর জীবন শুরু হয়েছিল সাধারণ পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েও তিনি বড় হয়েছিলেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সত্তা নিয়ে। একই সঙ্গে তার মধ্যে বিকশিত হয়েছিল একটি বিদ্রোহী সত্তা। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তাকে রাজদ্রোহিতার অপরাধে কারাবন্দী করেছিল। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন অবিভক্ত ভারতের বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন।

যে নজরুল সুগঠিত দেহ, অপরিমেয় স্বাস্থ্য ও প্রাণখোলা হাসির জন্য বিখ্যাত ছিলেন, ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মারাত্মকভাবে স্নায়বিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে আকস্মিকভাবে তার সকল সক্রিয়তার অবসান হয়। ফলে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু অবধি সুদীর্ঘ ৩৪ বছর তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রযোজনায় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিংশ শতাব্দীর বাঙালির মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তার কবিতা ও গানের জনপ্রিয়তা বাংলাভাষী পাঠকের মধ্যে তুঙ্গস্পর্শী। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তার মানবিকতা, ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা গত প্রায় একশত বছর যাবৎ বাঙালির মানস পীঠ গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে।


কাজ নেন। এভাবে বেশ কষ্টের মাঝেই তার বাল্য জীবন অতিবাহিত হতে থাকে। এই দোকানে কাজ করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহ'র সাথে তার পরিচয় হয়। দোকানে একা একা বসে নজরুল যেসব কবিতা ও ছড়া রচনা করতেন তা দেখে রফিজউল্লাহ তার প্রতিভার পরিচয় পান। তিনিই নজরুলকে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আবার রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ফিরে যান এবং সেখানে অষ্টম শ্রেণি থেকে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এখানেই পড়াশোনা করেন। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। এই স্কুলে অধ্যয়নকালে নজরুল এখানকার চারজন শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। এরা হলেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল, বিপ্লবী চেতনাবিশিষ্ট নিবারণচন্দ্র ঘটক, ফার্সি সাহিত্যের হাফিজ নুরুন্নবী এবং সাহিত্য চর্চার নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়


সৈনিক জীবন

 

১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। উক্ত রেজিমেন্টের পাঞ্জাবী মৌলবির কাছে তিনি ফার্সি ভাষা শিখেন। এছাড়া সহ-সৈনিকদের সাথে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতের চর্চা অব্যাহত রাখেন, আর গদ্য-পদ্যের চর্চাও চলতে থাকে একই সাথে। করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা); গল্প: হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে, কবিতা সমাধি ইত্যাদি। এই করাচি সেনানিবাসে থাকা সত্ত্বেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসী, ভারতবর্ষ, ভারতী, মানসী, মর্ম্মবাণী, সবুজপত্র, সওগাত এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। এই সময় তার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ফার্সি কবি হাফিজের কিছু বই ছিল। এ সূত্রে বলা যায় নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি এই করাচি সেনানিবাসেই। সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর যাননি। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হয়। এরপর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।


সাংবাদিক জীবন


যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন। তার সাথে থাকতেন এই সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফ্‌ফর আহমদ। এখান থেকেই তার সাহিত্য-সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু হয়। প্রথম দিকেই মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস বাঁধন হারা এবং কবিতা বোধন, শাত-ইল-আরব, বাদল প্রাতের শরাব, আগমনী, খেয়া-পারের তরণী, কোরবানি, মোহরর্‌ম, ফাতেহা-ই-দোয়াজ্‌দম্‌, এই লেখাগুলো সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। এর প্রেক্ষিতে কবি ও সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার মোসলেম ভারত পত্রিকায় তার খেয়া-পারের তরণী এবং বাদল প্রাতের শরাব কবিতা দুটির প্রশংসা করে একটি সমালোচনা প্রবন্ধ লিখেন। এ থেকেই দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমালোচকদের সাথে নজরুলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় শুরু হয়। বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে কাজী মোতাহার হোসেন, মোজাম্মেল হক, কাজী আবদুল ওদুদ, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌, আফজালুল হক প্রমুখের সাথে পরিচয় হয়। তৎকালীন কলকাতার দুটি জনপ্রিয় সাহিত্যিক আসর গজেনদার আড্ডা এবং ভারতীয় আড্ডায় অংশগ্রহণের সুবাদে পরিচিত হন অতুলপ্রসাদ সেন, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, শিশিরকুমার ভাদুড়ী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নির্মেলন্দু লাহিড়ী, ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রকুমার রায়, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ওস্তাদ করমতুল্লা খাঁ প্রমুখের সাথে। ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখন থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। কাজী মোতাহার হোসেনের সাথে নজরুলের বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে।



১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই তারিখে নবযুগ নামক একটি সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হওয়া শুরু করে। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেরে-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এই পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুল নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন। ঐ বছরই এই পত্রিকায় "মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেন যার জন্য পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং নজরুলের উপর পুলিশের নজরদারী শুরু হয়। যাই হোক সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান। একইসাথে মুজফ্‌ফর আহমদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমিতিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন। বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিতা ও সঙ্গীতের চর্চাও চলছিল একাধারে। তখনও তিনি নিজে গান লিখে সুর দিতে শুরু করেননি। তবে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গীতজ্ঞ মোহিনী সেনগুপ্তা তার কয়েকটি কবিতায় সুর দিয়ে স্বরলিপিসহ পত্রিকায় প্রকাশ করছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে: হয়তো তোমার পাব দেখা, ওরে এ কোন স্নেহ-সুরধুনী- সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম গান প্রকাশিত হয়। গানটি ছিল: "বাজাও প্রভু বাজাও ঘন"।



সাহিত্যে রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে। এই জবানবন্দীতে নজরুল বলেছেন:

আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ রাজকারাগারে বন্দি এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত।... আমি কবি,আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত। কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন, আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা ভগবানের বাণী। সেবাণী রাজবিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায়দ্রোহী নয়, সত্যাদ্রোহী নয়। সত্যের প্রকাশ নিরুদ্ধ হবে না। আমার হাতের ধূমকেতু এবার ভগবানের হাতের অগ্নি-মশাল হয়ে অন্যায় অত্যাচার দগ্ধ করবে...।

১৬ জানুয়ারি বিচারের পর নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। নজরুলকে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে যখন বন্দী জীবন কাটাচ্ছিলেন তখন (১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি ২২) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এতে নজরুল বিশেষ উল্লসিত হন। এই আনন্দে জেলে বসে আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবিতাটি রচনা করেন।








Friday, May 23, 2025

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কতটুকু দরকার

 


✅ কেন জাতীয় নির্বাচন দরকার:


1. গণতন্ত্রের চর্চা বজায় রাখতে:

   - জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথ।


2. নতুন নেতৃত্বের সুযোগ:

   - তরুণ নেতৃত্ব, বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি ও নতুন চিন্তার অভিব্যক্তি সম্ভব হয়।


3. রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন:

   - সরকার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে বৈধতা পায়।


4. সুশাসন ও জবাবদিহি:

   - জনগণ তাদের প্রতিনিধি বেছে নিলে নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহি বাড়ে।



 তবে শুধু নির্বাচন নয়, দরকার:


- সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

- সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি

- EC-এর (নির্বাচন কমিশন) স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা

- সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা 




Wednesday, May 21, 2025

বাংলাদেশভিত্তিক হ্যাকারদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স

 


বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স বাংলাদেশভিত্তিক হ্যাকারদের সংগঠন যেটি মূলত আলোচনায় আসে ভারতের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে। ভারত সরকারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যা, টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ প্রভৃতি ইস্যু এই সাইবার যুদ্ধের ইন্ধন যোগায়। বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স এই সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীকালে বাংলাদেশভিত্তিক অপর দুই হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ সাইবার আর্মি এবং এক্সপায়ার সাইবার আর্মিও তাদের সাথে যোগ দেয়।


মার্চ ২০১৫-এ ভারতীয় রাজনীতিবিদ শশী থারুর দ্বারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় নিয়ে কটুক্তির কারণে তার ওয়েবসাইট এই গোষ্ঠী হ্যাক করে। 


বাংলাদেশ-ভারত সাইবার-যুদ্ধ


  ২০১২ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত ইন্টারনেটে সংঘটিত পাল্টাপাল্টি হ্যাকিং কার্যক্রমকে বোঝানো হচ্ছে। এধরনের সাইবার-যুদ্ধের ঘটন ২০০৭-এ এস্তোনিয়ায় হলেও দুটো দেশের মধ্যে এজাতীয় ঘটনা সহজদৃষ্ট নয়। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার এই ঘটনার সূত্রপাত মূলত হয়, ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসের ৯ ও ১০ তারিখ। ভারত সীমান্তে একজন বাংলাদেশীকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক উলঙ্গ করে নির্যাতনকে কেন্দ্র করে। তবে কারণ হিসেবে এটি একমাত্র ছিল না, বস্তুত সমকালীন আরো সীমান্ত-হত্যা এবং ভারত সরকার কর্তৃক টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্তও এই সাইবার-যুদ্ধের ইন্ধন ছিল। এই সাইবার আক্রমণের পিছনে বাংলাদেশের তিনটি হ্যাকার-দল, যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস, বাংলাদেশ সাইবার আর্মি এবং এক্সপায়ার সাইবার আর্মি নামে পরিচয় দেয়, নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে। এই দল-তিনটি তাদের সাথে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হ্যাকার-দল অ্যানোনিমাস-এর সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করে। এছাড়াও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরবের হ্যাকাররা বাংলাদেশী হ্যাকারদের সমর্থন দিচ্ছেন বলে সংবাদ-মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।যদিও, পরবর্তীতে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে এবং দাবী করা হয় তথ্যগুলো অতি উৎসাহী সমর্থকদের মস্তিষ্কপ্রসূত। তবে উল্লেখ্য, ভারত-সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা-সংক্রান্ত খবরের প্রচারই এই সাইবার-যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা একই সময়ে ভারতীয় হ্যাকার-দলও এই আক্রমণে প্রতি-আক্রমণ করে, যার নেতৃত্ব দেয় ইন্ডিশেল নামক হ্যাকার দল। এদের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সাইবার আর্মিও নিজেদের সম্পৃক্ততা ঘোষণা করে।



সাইবার-যুদ্ধের বিবরণ


যেহেতু বাংলাদেশীরা ভারত কর্তৃক নির্যাতিত, তাই বাংলাদেশের হ্যাকাররাই ভারতীয় ওয়েবসাইটে আক্রমণের সূচনা করে বলে ধারণা করা হয়, এমনকি প্রথমে সংবাদ-মাধ্যমে তেমনটাই প্রকাশিত হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ রাত থেকে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।প্রথমেই মহারাষ্ট্র পুলিশের ওয়েবসাইট আক্রমণের মাধ্যমে ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করা শুরু হয়। কিন্তু বাংলাদেশী হ্যাকার-গোষ্ঠী পরবর্তিতে দাবি করে, ভারতীয় হ্যাকাররাই এই সাইবার-যুদ্ধের সূচনা করে, আর তারই জবাবে বাংলাদেশী হ্যাকারদের এই প্রতি-আক্রমণ। বাংলাদেশী হ্যাকাররা আক্রমণের প্রাথমিক ধাপে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী'র (বিএসএফ) ওয়েবসাইট হ্যাক করে সম্পূর্ণ অকার্যকর করে ফেলে।পরবর্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি, বিএসএফ-এর বিকল্প ওয়েবসাইটও (www.bsf.nic.in) আক্রমণ করে এর সোর্সকোড উন্মুক্ত করে দেয় বাংলাদেশী হ্যাকাররা। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে আক্রমণ চালায় তারা। এই আক্রমণের পাশাপাশি হ্যাকাররা নিজেদের ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন ব্লগ ওয়েবসাইটে তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবৃতি দিতে থাকে, আর প্রকাশ করতে থাকে হ্যাক করা ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউব-এ ভারত সরকারের প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ আর কালো আলখাল্লা পরিহীত একজন লোক হাতে একটি কাগজ নিয়ে টেবিলের ওপাশ থেকে বসে কথা বলছেন। তার কথাগুলো যন্ত্রের কথনে শোনা যাচ্ছে। মুখোশের আদল পুরোপুরি অ্যানোনিমাস-এর মুখোশের সাথে মিলে যায়। মুখোশ পরিহিত ব্যক্তি যে বক্তব্যটি দেন, তা ছিল:

হ্যালো বাংলাদেশের নাগরিকরা, আমরা বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস। এখন সময় আমাদের চোখ খুলবার। বিএসএফ এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে, তাদের গুলিতে আহত হয়েছে আরও ৯৮৭ বাংলাদেশি। অপহৃত হয়েছে হাজারো মানুষ। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তারা অবিচার করছে। সংকটময় এ মুহূর্তে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ববোধ রয়েছে, আমরা চাই ভারত সরকার নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা করা বন্ধ করুক। নতুবা আমরা ভারতীয়দের বিরুদ্ধে সাইবার-যুদ্ধ শুরু করব। এটি চলতেই থাকবে।

এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশী হ্যাকারদের অনবরত সাইবার আক্রমণের প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইটও হ্যাক হতে শুরু করে, এই তালিকায় বাংলাদেশের কিছু সরকারি ওয়েবসাইটও ছিল। ভারতীয় হ্যাকার-দল ইন্ডিশেল অনেকগুলো ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশি হ্যাকারদের হটিয়ে দিয়ে রোববার রাত পর্যন্ত সময় দেয় বলে সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। এই সময়ের মধ্যে ভারতের সাইটগুলোতে আক্রমণ বন্ধ না করলে বাংলাদেশের ওয়েবসাইটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ইন্ডিশেল হুমকি দেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বাংলাদেশের এরকম কিছু ওয়েবসাইট হ্যাকের খবর প্রকাশিত হয় বিবিসি বাংলায়। অবশ্য এরকম আক্রমণের জবাব দিতে বাংলাদেশী হ্যাকার-দলগুলো ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ভারতের কয়েকশ' ওয়েবসাইটও হ্যাক করে বলে বিবিসি বাংলার ঐ খবরেই তথ্যপ্রকাশ হয়।বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যমগুলো এই হ্যাকিং-এর পিছনে ইন্ডিয়ান সাইবার আর্মি নামক একদল হ্যাকারের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ করে।১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যম জানায়, ভারতীয় প্রায় ২০,০০০-এর অধিক ওয়েবসাইট এই আক্রমণের কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।

এই আক্রমণে অধিক পরিমাণে ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ায় ভারতীয় হ্যাকাররা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে বলে সংবাদ বেরোয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ভারতীয় হ্যাকাররা বিভিন্ন বাংলাদেশী ওয়েবসাইট হ্যাক করে বাংলাদেশী হ্যাকারদের উপর দোষ চাপিয়ে দিতে থাকে। সংবাদে www.publiclibrary.gov.bd ওয়েবসাইটের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ভারতীয় হ্যাকাররা ওয়েবসাইটটি হ্যাক করে লিখে রাখে: HackeD bY BD BLACK HAT TEAM।যদিও এজাতীয় সংবাদ বাংলাদেশী সংবাদ-মাধ্যমগুলোতে ছাপা হলেও ভারতীয় সংবাদ-মাধ্যমে এরকম কোনো সংবাদ ছাপা হয়নি।

সাইবার-যুদ্ধ চলাকালীন ভারতীয় ওয়েবসাইটে আক্রমণের পাশাপাশি বাংলাদেশী হ্যাকাররা বাংলাদেশী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য নিরাপত্তা পরামর্শও দিতে থাকে।







Tuesday, May 20, 2025

একজন প্রফেসর ডক্টর কামাল উদ্দিন স্যারের প্রচেষ্টা ও ভূতের বাড়ির বদলে যাওয়ার গল্প

 

এরশাদবিরোধী শহীদ মোজাম্মেল দেশকে দিয়েছেন গণতন্ত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (চবি) দিয়েছেন ‘শহীদ মোজাম্মেল মিলনায়তন’। কিন্তু আশির দশকে বন্ধ হওয়া এই সাংস্কৃতিক মিলনায়তনটি গেল কয়েক দিন আগেও বন্ধ ছিল এটি ভূতের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল । ফলে সংস্কৃতিবিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।৫০০ ফুট লম্বা গ্যালারির প্ল্যাটফর্ম এবং ২০০ ফুট লম্বা মূল মঞ্চ স্যাঁতসেঁতে। শব্দ নিরোধক ব্যবস্থার কোন অস্তিত্ব নেই। দরজা-জানালার কাঁচ উধাও। পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভাঙ্গা দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই কয়েকটি পেঁচা এদিক-ওদিক ওড়াউড়ি করছে। ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় মিলনায়তনটি। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ছাত্র মোজাম্মেলের নামে এটির নামকরণ করা হয় ‘মোজাম্মেল মিলনায়তন’। প্রায় ১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মিলনায়তনটি ১৯৯০ সালের পর আর সংস্কার করা হয়নি। চবি প্রকৌশল দফতর সূত্রে জানা গেছে, মিলনায়তনটি সংস্কারের লক্ষ্যে কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু সংস্কার আর হয়নি। বিগত বছরগুলোতে ফাইল চালাচালি ও নানা কমিটি-উপকমিটি গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এর সংস্কার কার্যক্রম। মিলনায়তনকে উপযোগী করতে ২০০৩ সালে ৬৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ ২০০৯ সালে অধ্যাপক মোস্তাইন বিল্লাহকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও কার্যকর কিছু হয়নি। অফসোস করে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানালেন, আমরা এই মিলনায়তন সম্পর্কে শুনেছি। এত বড় হল দেখে আমাদের ভাল লাগে। নাটকের জন্য খুবই উপযুক্ত স্থান বলে মনে হয়। কিন্তু এটা অকেজো। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। এতে সংস্কৃতিবিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মিলনায়তন না থাকার কারণে অনুষদের মিলনায়তনেই করতে হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুঃখের বিষয়, পরবর্তীতে প্রশাসন এটি চালু না করায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড

 আশির দশকের সমাজতত্ত্বের ছাত্র শিশির দত্ত বলেন, ওই দশকের মাঝামাঝি সময় এটা বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত একটা যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল।সাংস্কৃতিক কোন কর্মকা- করার সুযোগ ছিল না। যার ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিকভাবে বন্ধ্যা সময়ের সূচনা হয়েছে।জুলাই বিল্পব পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছে নতুন প্রশাসন।

নানামুখী সংস্কার কাজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও স্থাপনা রক্ষায় মূখ্যম ভুমিকা পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রশাসন প্রফেসর ডক্টর Md. Kamal Uddin  স্যার ওনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিত্যক্ত ভূতের বাড়ি খ্যাত শহীদ মোজাম্মেল মিলনায়ত আলোর মুখ দেখলো!সকলের প্রত্যশা আপনার হাতধরে বধলে যাবে  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। 

Saturday, May 17, 2025

চট্টগ্রাম অবস্থিত বিখ্যাত ইরানি সূফী সাধক বায়োজিদ বোস্তামি মাজার

 


বায়েজিদ বোস্তামি


(ফার্সি: بايزيد بسطامى) একজন বিখ্যাত ইরানি সূফী সাধক। তিনি আবু ইয়াজিদ বিস্তামি, তায়ফুর আবু ইয়াজিদ আল-বোস্তামি অথবা সুলতান-উল-আরেফিন (৮০৪-৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দ) নামেও পরিচিত। তার জন্ম ইরানের বোস্তাম শহরে।


বোস্তামীর মাজার


চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। ইরানের বিখ্যাত সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর নামে গড়ে উঠা এই মাজার চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্যও একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। বেশ কিছু মানুষের ধারণা যে এখানেই বায়েজিদ বোস্তামীর কবর অবস্থিত এবং তাঁরা এই বিশ্বাস থেকেই তার কবর জিয়ারত করতে যান। কিন্তু আসলে তা সত্য নয়। তাঁর কবর ইরানে অবস্থিত। হযরত বায়জিদ বোস্তামি (রহঃ) এর আসল মাজার বা কবর হলো ইরানের সেমনন প্রদেশের বোস্তাম শহরে।



বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারের পাদদেশে একটি সুবিশাল দীঘি অবস্থিত। এর বাসিন্দা হিসাবে বোস্তামীর কাছিম ও গজার মাছ সুবিখ্যাত। আঞ্চলিকভাবে এদের মাজারী ও গজারী বলে আখ্যায়িত করা হয়। বোস্তামীর কাছিম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অত্যন্ত বিরল এবং চরমভাবে বিপন্নপ্রায় প্রজাতি। বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার প্রাঙ্গণ ব্যতীত বিশ্বের আর কোথাও এদের দেখা মিলে না। মাজারের দেখাশোনার দ্বায়িত্বে থাকা মাজার তত্ত্বাবধায়ক কমিটির লোকদের দ্বারাই এদের প্রতিপালন করা হয়। বর্তমানে মাজার প্রাঙ্গণ সংলগ্ন এই দীঘিতে দেড়শো থেকে সাড়ে তিনশো কচ্ছপের আবাস রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রজনন মৌসুমে মাজারের মূল পাহাড়ের পেছনে এদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে এদের ডিম পাড়ার ব্যবস্থা করা হয়।

মাজারের ভক্তকূল ও আঞ্চলিক জনশ্রুতি অনুযায়ী মাজার প্রতিষ্ঠাকালে এই অঞ্চলে প্রচুর দুষ্ট জ্বীন এবং পাপীষ্ঠ আত্মার পদচারণা ছিলো। বায়েজিদ বোস্তামী তার এই অঞ্চলে ভ্রমনকালে এইসব দুষ্ট আত্মাকে শাস্তিস্বরূপ কাছিমে পরিণত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।






জীবনী


বোস্তামী নামের অর্থ - যিনি বোস্তাম শহরের বাসিন্দা। হযরত বায়েজিদের দাদা একজন পার্সী ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার দাদার তিন ছেলে ছিল, তারা হলেন - আদম, তায়ফুর এবং আলী। তারা সকলেই কঠোর তপস্বী ছিলেন। তায়ফুর এর ছেলে হলেন বায়েজিদ। তার শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না, তবে বেশির ভাগ সময়ই তিনি নিজ বাড়ির নিভৃতে অথবা মসজিদে কাটিয়েছেন। সূফীবাদের আলোচনা করার জন্য তিনি লোকজনকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করতেন। বায়েজিদ কঠোর তপস্যা করতেন এবং সৃষ্টির্কতার সান্নিধ্য লাভের আশায় দুনিয়ার সকল আনন্দ-ফুর্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন।


মাতৃভক্তি


বায়েজিদ বোস্তামী সম্পর্কে একটি প্রচলিত কাহিনী রয়েছে যে, একদিন বায়েজিদ বোস্তামীর মা অসুস্থ ছিলেন। এক রাতে মা বায়েজিদ বোস্তামীকে পানি পান করবার জন্য পানি আনতে বলেন। বায়েজিদ ঘরে পানি না পেয়ে অন্ধকার রাতে নদী থেকে পানি নিয়ে আসেন। এসে দেখলেন মা ঘুমিয়ে আছেন। তিনি ভাবলেন মাকে জাগালে মায়ের ঘুম ভেঙে যাবে,তাই তিনি পানি হাতে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সকালে মায়ের ঘুম ভাঙার পর দেখলেন তার ছেলে পানি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি অবাক হলেন, খুশি হলেন। মা প্রাণভরে ছেলের জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ মায়ের দোয়া কবুল করলেন। পরে পৃথিবী খ্যাত ওলি বায়েজিদ বোস্তামী নামে পরিচিত হলেন।










Monday, May 5, 2025

বাংলাদেশ কি এখন ভারতের জন্য পাকিস্তানের চেয়েও বড় হুমকি

 

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব একটি চিরন্তন কূটনৈতিক নাটক। যুদ্ধ, সন্ত্রাস, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কিংবা কারগিল—এই দুই দেশের সম্পর্ক বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে, আবার সময়ের সাথে সাথে ঠান্ডাও হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক জটিল বাস্তবতা ভারতের সামনে এক নতুন চিন্তার দরজা খুলে দিয়েছে—এবারের হুমকি পশ্চিম নয়, বরং পূর্ব দিক থেকে। প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি এখন বাংলাদেশের দিকেই বেশি সতর্ক?


বাংলাদেশ, একসময় ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে অর্জিত এই সম্পর্ক আজ এমন মোড় নিয়েছে যেখানে ভারতের নীতিনির্ধারকরা পূর্ব সীমান্ত নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। এর বড় কারণ হলো বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের (সেভেন সিস্টার্স) প্রবেশদ্বার। এই অঞ্চল ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া 'চিকেন’স নেক' করিডোর দিয়ে সংযুক্ত। এই সংকীর্ণ পথ ভারতের কৌশলগত দুর্বলতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।


সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সাবেক মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান, প্রকাশ্যে দাবি করেছেন—“যদি ভারত পাকিস্তানে হামলা করে, বাংলাদেশকে ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য দখল করতে হবে। এজন্য চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক সহযোগিতার আলোচনা শুরু করা জরুরি।” এমন বক্তব্য ভারতের কূটনৈতিক মহলে শুধু আতঙ্ক নয়, বরং বিস্ময়েরও জন্ম দিয়েছে। কারণ পাকিস্তান বহুবার যুদ্ধের হুমকি দিলেও, এভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলের পরিকল্পনা এত প্রকাশ্যভাবে আর কেউ দেয়নি।


এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে—এই বক্তব্য একা ফজলুর রহমানের নয়। বর্তমান বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার ছোট থেকে বড় সব অংশের মধ্যে এখন যেন এক অদ্ভুত ঐকমত্য গড়ে উঠছে এই নিয়ে। কেউ সরাসরি যুদ্ধের কথা বলছে, কেউ বলছে "বাংলাদেশই এই অঞ্চলের একমাত্র সমুদ্র অভিভাবক", কেউ আবার বলছে "এই অঞ্চল চীনের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের স্বর্ণদ্বার হতে পারে"। একদিকে ইউনূস, অন্যদিকে রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সাবেক সামরিক কর্তা, তৃতীয়দিকে সরব প্রশাসন, সবায় যেন প্রস্তুত —এই ত্রিমুখী সম্মতিই ভারতকে ভাবিয়ে তুলছে সবচেয়ে বেশি।


বস্তুত, বাংলাদেশে এই ‘চিকেন নেক ফ্যান্টাসি’র শুরু আজকের নয়। পাকিস্তান আমলে ভারতকে পূর্ব দিক থেকে ঘায়েল করার কৌশল ছিল একদা পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক কৌশলবিদদের প্রিয় বিষয়। ১৯৭১ সালের পর সেই স্বপ্ন নষ্ট হলেও, আজ আবার চীনের কূটনৈতিক উস্কানি, ইসলামী মৌলবাদের ছায়া, ও এক অন্তঃসারশূন্য সরকারপ্রধানের মাধ্যমে সেই ভূত আবার ফিরে এসেছে। আজকের বাংলাদেশ যেন হয়ে উঠছে পাকিস্তানের নতুন মুখোশ পরে ভারতের পূর্ব সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক ধূর্ত প্রতিবেশী।


অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধের হুমকি অনেকটাই পুরনো এবং প্রত্যাশিত। দুই দেশই জানে, কোন সীমা পর্যন্ত উত্তেজনা গড়াবে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি চীনের সহায়তায় আচমকা এক সাঁড়াশি কৌশল নেয়—তাহলে তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। এই অঞ্চলটি বর্তমানে ভারতের ‘BIMSTEC সংযোগকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে উঠছে, যেখানে রেল, সড়ক, নৌপথ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাইপলাইন গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অংশ কাটা গেলে ভারতের পূর্বাঞ্চল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদ, ধর্মীয় উত্তেজনা ও নৃগোষ্ঠীগত সমস্যা আগে থেকেই ছিল। সেখানে বাংলাদেশ যদি ‘মার্কেটপ্লেস অব ইসলামিজম’ হয়ে ওঠে এবং সেই সঙ্গে চীনের সহায়তা পায়, তাহলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নতুন মাত্রায় বিপদগ্রস্ত হবে।


তারও চেয়েও বড় বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখন চীনের Belt and Road Initiative (BRI)-এর অংশ হতে চায়। বন্দরে চীনা বিনিয়োগ, নৌবাহিনীর কূটনৈতিক উপস্থিতি ও চীনা সামরিক ড্রোন চুক্তি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, ভারত এখন আর বাংলাদেশকে নিছক বন্ধুদেশ হিসেবে দেখে না। বরং এক সম্ভাব্য ‘পূর্ব ফ্রন্ট’ হিসেবে জরুরিভাবে বিশ্লেষণ করছে।


Friday, May 2, 2025

মানবিক করিডোর কি? মানবিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য

 

মানবিক করিডোর” (Humanitarian Corridor)বলতে বোঝায় একটি নিরাপদ পথ বা অঞ্চল, যেটি সাধারণত যুদ্ধ বা সংকটপূর্ণ অঞ্চলে আটকে পড়া নিরীহ নাগরিক, আহত ব্যক্তি, শরণার্থী, ত্রাণকর্মী বা খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়।






১। নিরাপদে মানুষকে স্থানান্তর করা:

যুদ্ধ বা সহিংসতার মধ্যে থাকা নিরীহ মানুষ যেন নিরাপদে অন্য জায়গা সরে যেতে পারে।


২। ত্রাণ পৌঁছানো :

খাদ্য, ওষুধ, পানি ইত্যাদি সাহায্য সামগ্রী যেন দুর্যোগ কবলিত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়।


৩। আহত ও অসুস্থদের সরানো:


চিকিৎসার জন্য বিপদগ্রস্তদের নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া।




🕊️ মানবিক করিডোর সাধারণত ব্যবহার হয়:

- যুদ্ধক্ষেত্র বা দখলকৃত এলাকায়

- প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়

- জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস-এর সমন্বয়ে


---


🛑 চ্যালেঞ্জ:

- সব পক্ষের সম্মতি না থাকলে করিডোর কার্যকর হয় না।

- অনেক সময় মানবিক করিডোর লঙ্ঘন করে হামলা চালানো হয়, যা *আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন।




🌍 সাম্প্রতিক উদাহরণ:

গাজা সংকট (২০২৩–২৪)*: সেখানে মিশরের রাফা সীমান্ত দিয়ে মানবিক করিডোর স্থাপনের চেষ্টা হয়, যাতে ত্রাণ প্রবেশ করানো যায়।


*ইউক্রেন যুদ্ধ:*

বিভিন্ন সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে করিডোর চালু হয়েছিল।



নদীর পাড়ে

নদীর পাড়ে বসে আজ, চুপচাপ দেখি স্রোতের খেলা, হৃদয়ের মাঝে জমে থাকা কথা, বয়ে যায় যেন সময়ের ভেলা। হাওয়ার ছোঁয়ায় দোলে মন, প্রকৃতি গায় নীরব গান, জ...