Wednesday, April 30, 2025

মানিকগঞ্জ অবস্থিত প্রাচীন প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা তেওতা জমিদার বাড়ি


মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি শিবালয় উপজেলার তেওতা নামক গ্রামে অবস্থিত।


ইতিহাস


ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরশ' শতকে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামক একজন জমিদার। জনশ্রুতি অনুসারে, পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন ও দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি তামাক উৎপাদন করে প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করে জয়শংকর ও হেমশংকর নাম দুজন ব্যক্তি। ভারত বিভক্তির পর তারা দুজনেই ভারত চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

এছাড়াও এখানে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন। এ প্রাসাদেই নজরুল, প্রমীলা দেবীর প্রেমে পড়েন ও লিখেছিলেন,


" তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়

সেকি মোর অপরাধ"


বর্তমান অবস্থা: ১৯৫৭ সাল থেকে এই বিস্তৃত জমিদারি বর্তমানে অযত্নে এবং পরিত্যাক্ত অবস্থায় টিকে আছে। যদিও প্রায় অংশই দখলদারীদের হাতে চলে গেছে। নির্মাণশৈলীর এবং কৌশলগত দিক থেকে তেওতার জমিদারদের অপূর্ব ভবনটিতে মুগল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যের এক চমৎকার মিশ্রণ প্রতিফলিত হয়।  

Sunday, April 27, 2025

সমাজে প্রচলিত কিছু জাল হাদিস


১)দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।এই হাদীসটি যে কেবল তাই নয় উপরন্তু জাল হাদীসের বই ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থে সেটির উল্লেখ নেই। ইমাম সুয়ুতীর ‘আল আহাদীস আল মুনতাছিরাতে’ বলেছেন- আমি এটা খুজে পায়নি। একই কথা ইমাম সাখাবী বলেছেন। ইমাম সগানী বলেছেন হাদীসটি জাল। শায়খ আলবানী জাল বলেছেন।


২) খাওয়ার আগে ও পরে লবন খাওয়া কারন এটা ৭০ প্রকার রোগের প্রতিষেধক।এটা সম্পুর্ন বানোয়াট কথা। বরং উচ্চরক্তচাপ রোগীদের জন্য লবন খাওয়া বিপদজনক।


৩)লাল দস্তরখানে খাওয়া একটি সুন্নাত। যে ব্যক্তি লাল দস্তরখানে খাবে, প্রতি লোকমার বিনিময়ে প্রতিদানে একশ করে নেকি পাবে ও বেহেস্তের ১০০টি দরজা তার জন্য নির্ধারিত হবে… ইত্যাদি।এটা একটা বানোয়াট কথা। প্রক্রিতপক্ষে রাসুল (সঃ) দস্তরখান ব্যবহার করতেন কিন্তু তিনি কখনো লাল দস্তরখান ব্যবহার করেছেন কিংবা এইরুপ দস্তরখান ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়েছেন তার কোন সহিহ হাদিস নাই। দস্তরখান ছাড়া খাদ্যগ্রহণ বিষয়ে তিনি কখনো আপত্তিও করেননি।রাসুল (সঃ) এর দস্তরখান ব্যবহার বলতে আমরা বুঝি তিনি এর উপর প্লেট, থালা, বাটি রেখে খেতেন। কিন্তু ধারণাটি সঠিক নয়। তাঁর সময় চামড়ার দস্তরখানা বা “সুফরা” ব্যবহার করা হত ও তার উপরই থালা বাটি ছাড়াই সরাসরি খেজুর, পনির, ঘি ইত্যাদি খাবার রেখে খাওয়া হত।


৪)খাওয়ার সময় কথা বলা যাবেনা।বরং সহিহ হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সঃ) ও সাহাবিগন খাবার গ্রহনের সময় বিভিন্ন কথাবার্তা বলতেন ও গল্প করতেন।


৫)শহীদের রক্তের চেয়ে কলমের কালি উত্তম।কথাটি সুন্দর শুনালেও এটা রাসুল (সঃ) এর কথা না। ইসলামে জিহাদ ও শহীদের গুরুত্ব অনেক বেশি।

মোসাদ কী এবং কেন? মোসাদ-ইহুদি সমীকরণ

 


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কাজ যা হয়, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও মোসাদের ভূমিকা তাই। সহজ কথায়, রাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা প্রদান এবং সে অনুযায়ী সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো নজর বিছিয়ে রাখার মাধ্যমে ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষা করে মোসাদ।

বিভিন্ন গুপ্তচরবৃত্তিক অপারেশন, গোপন তথ্য সংগ্রহ, সেসব তথ্য বিশ্লেষণ এবং উগ্রপন্থা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে সংস্থাটি। ধারণা করা হয়, মোসাদে নিযুক্ত কর্মীর সংখ্যা ৭ হাজারের আশপাশে। তবে সংস্থাটির গোপনীয়তা রক্ষায় সাফল্য আছে বলেই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এমনকি, মোসাদের সদরদপ্তর কোথায় জানা যায় না, যোগাযোগের জন্যও নেই কোনো টেলিফোন নম্বর।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী মোসাদের প্রধানের নামই শুধু জানা যায়। বর্তমানে এই সংস্থার প্রধান হলেন ডেভিড বার্নিয়া। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই পদে আসীন রয়েছেন।

ডেভিড মেইডান নামে অবসরপ্রাপ্ত এক স্পাইমাস্টার তার মোসাদকালীন অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, 'মোসাদে নিয়োগকৃত সব কর্মীকেই নিজের সবল স্নায়ুর পরিচয় দিতে হবে এবং এই সবলতা নিঃসন্দেহে সাধারণের মাপকাঠির বহু উঁচুতে। উচ্চপর্যায়ের ভয় ও মানসিক চাপেও স্বাভাবিক থাকতে পারা মোসাদের কর্মী হওয়ার অন্যতম শর্ত।'

মোসাদ কোনো অপরাধীকে তাদের কর্মী হিসেবে স্থান দেয় না। কিন্তু একইসঙ্গে শুধু মোসাদ এজেন্ট হতে গেলেই একজন ব্যক্তিকে ভীষণ লুকোছাপার জীবন কাটাতে হয়, ব্যক্তি পরিসরে আশ্রয় নিতে হয় বহু প্রতারণারও।

সেক্ষেত্রে 'অপরাধ' এর সংজ্ঞায়ন কিছুটা ধোঁয়াটে মনে হতে পারে বৈকি। ব্যক্তিজীবন বলে কিছু থাকবে না, এমনটা ধরে নিয়েই যারা এগিয়ে যান, হয়তো তারাই কাজ করে চলেছেন মোসাদ কিংবা এমন সব গোপন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী হিসেবে।


মোসাদে কারা নিয়োগ পায় বা পেতে পারে, এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেরই অনেক তত্ত্বকথা থাকতে পারে। তবে মোসাদের ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারলে মনে হয় এর নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত 'উদার', কেননা সেখানে লেখা রয়েছে- 'ধর্ম-বর্ণ, জাতীয়তা ও পেশা নির্বিশেষে আমাদের সংস্থা মোসাদে যোগাযোগ করতে এবং ব্যক্তিগত লাভ অর্জনের জন্য ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে সবাইকে স্বাগত'।

কিন্তু এত উদার আহ্বান কি প্রকৃতার্থেই সত্যি, নাকি এর ভেতরেও আছে রহস্যের বাড়তি পরত? যে রহস্যের গন্ধ থেকেই জন্ম নিয়েছে আরও একটি প্রশ্ন– মোসাদ কি শুধু ইহুদিদেরই নিয়োগ দেয়?

আর এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও ঘাটতে হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, যেখানে হিটলার আর তার নাৎসি বাহিনী বেছে বেছে ইহুদিদের নিধনযজ্ঞে মেতেছিল। প্রায় ৬০ লাখ ইহুদি জীবন হারানোর পর ১৯৪৮ সালের দিকে 'ইসরায়েল' নামে যে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়, সেখানে খ্রিস্টান, মুসলিম, ইহুদি সবার বসবাস থাকলেও পক্ষপাতের দণ্ডটা ইহুদিদের দিকেই হেলে থাকতে দেখা গেছে সবসময়। আর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার খুব কম দিনের মধ্যেই যেহেতু মোসাদেরও যাত্রা শুরু, রাষ্ট্রটির ভিত্তির সঙ্গে মোসাদের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকাকে এড়ানো যায় না কোনোভাবেই।

বিশ্বে সরকারি-বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কমতি নেই, তবু এত এত সংস্থার ভিড়ে মোসাদের গায়ে প্রায়ই জোটে 'বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক, নিষ্ঠুর ও দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা'র তকমা। এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার অপর নাম ছিল মোসাদ।

১৯৪৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয় যাকে, সেই ডেভিড বেন গুরিয়নের হাতে মোসাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যক্তি ছিলেন জায়নিজমের ধ্বজাধারী এবং হিব্রু ভাষাকে ইসরায়েলের মাটিতে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দানকারী।

মোসাদের বিভিন্ন গোপন ও প্রকাশিত উদ্দেশ্যগুলো থেকে সংক্ষেপে যে নির্যাস সেঁচে আনা যায়, তা থেকে বলা চলে– ইসরায়েলের বাহির ও ভেতরে গোপন সব তথ্যের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, শত্রুরাষ্ট্র এমনকি শত্রুতার ভাব আছে এমন রাষ্ট্রগুলোর সামরিক খবরাখবর সম্পর্কে সদা সচেতন থাকা, ইসরায়েলের যেকোনো অঞ্চল বা স্থানে আক্রমণ সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া এবং আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি।

এসব মৌলিক বিষয় ছাড়াও শুধু 'ইহুদি' সংক্রান্ত বিশেষ কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হয় মোসাদকে। ইসরায়েল যেহেতু শুরু থেকেই ইহুদিদের জন্য মুক্তদ্বার রাষ্ট্র, সেক্ষেত্রে ইহুদিদের অনায়াসে আগমনে মোসাদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Wednesday, April 23, 2025

নির্বাচন দরকার নাকি দেশ সংস্কার প্রয়োজন

 আমি বলবো—দুটোরই দরকার, তবে নির্বাচন যেন হয় সংস্কারের হাতিয়ার, মুখোশ নয়।


নির্বাচন দরকার—কারণ এটি গণতন্ত্রের প্রাণ। জনগণ তাদের নেতা বেছে নেয় এই পদ্ধতির মাধ্যমে। কিন্তু সমস্যা হয় যখন নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা হয়, ফলাফল আগে থেকে নির্ধারিত থাকে, বা জনগণের ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন দেখা যায় না।


আর ঠিক তখনই আসে ‘দেশ সংস্কারের’ প্রয়োজন।

আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার দরকার—যেখানে 'স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের ভোটের মর্যাদা নিশ্চিত হয়।  

প্রয়োজন বিচারব্যবস্থার সংস্কার, প্রয়োজন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, প্রয়োজন রাজনীতিকে সত্যিকারের জনগণের সেবায় ফিরিয়ে আনা।


তাই আমি বলি—নির্বাচন জরুরি, কিন্তু সে নির্বাচন যেন হয় এক নতুন ‘দেশ সংস্কারের সূচনা’।

না হলে শুধু ভোট দিয়ে শুধু সরকার বদল হবে, কিন্তু দেশের মৌলিক সংকটগুলো রয়ে যাবে অমীমাংসিত।

Tuesday, April 22, 2025

মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস

 পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইবরাহিম লোদির বিরুদ্ধে বাবরের জয়ের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। মুঘল সম্রাটরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার তুর্কো-মঙ্গোল বংশোদ্ভূত। তারা চাঘতাই খান ও তৈমুরের মাধ্যমে চেঙ্গিস খানের বংশধর। ১৫৫৬ সালে আকবরের ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্রূপদী যুগ শুরু হয়। আকবর ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ভারতে অর্থনৈতিক প্রগতি বহুদূর অগ্রসর হয়। আকবর অনেক হিন্দু রাজপুত রাজ্যের সাথে মিত্রতা করেন। কিছু রাজপুত রাজ্য উত্তর পশ্চিম ভারতে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি রাখে কিন্তু আকবর তাদের বশীভূত করতে সক্ষম হন। মুঘল সম্রাটরা মুসলিম ছিলেন তবে জীবনের শেষের দিকে শুধুমাত্র সম্রাট আকবর ও তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর নতুন ধর্ম দীন-ই-ইলাহির অনুসরণ করতেন।

তবে কদাচিৎ বাবরের নাতি আকবরের শাসনের তারিখ ১৬০০ থেকে মুঘল সাম্রাজ্যর কাঠামো ধরা হয়। এই সাম্রাজ্যিক কাঠামো ১৭২০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, শেষ প্রধান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। তার রাজত্বকালে সাম্রাজ্যতার সর্বোচ্চ ভৌগোলিক ব্যাপ্তি অর্জন করে। পরবর্তীতে বিশেষ করে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনামলে এটি মুলত পুরান দিল্লি এবং তার আশেপাশের অঞ্চলের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়ে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ রাজ দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যায়।

মুঘল সাম্রাজ্য স্থানীয় সমাজে হস্তক্ষেপ করত না তবে প্রশাসনিকভাবে এসববের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হত। অনেক বেশি কাঠামোগত, কেন্দ্রীভূত শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুঘল শাসনামলে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন মারাঠা, রাজপুত ও শিখরা সামরিক শক্তি অর্জন করে।

শাহজাহানের যুগে মুঘল স্থাপত্য এর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করে। তিনি অনেক স্মৃতিসৌধ, মাসজিদ, দুর্গ নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে আগ্রার তাজমহল, মোতি মসজিদ, লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ। আওরঙ্গজেবের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়। শিবাজী ভোসলের অধীনে মারাঠাদের আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্যের অবনতি শুরু হয়। আওরঙ্গজেবের সময় দক্ষিণ ভারত জয়ের মাধ্যমে ৩.২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। এসময় সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ১৫০ মিলিয়নের বেশি যা তৎকালীন পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

১৮শ শতাব্দীর মধ্যভাগ নাগাদ মারাঠারা মুঘল সেনাবাহিনীর বিপক্ষে সফলতা লাভ করে এবং দক্ষিণাত্য থেকে বাংলা পর্যন্ত বেশ কিছু মুঘল প্রদেশে বিজয়ী হয়। সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সৃষ্টি হয় যার ফলে বিভিন্ন প্রদেশ কার্যত স্বাধীন হয়ে পড়ে। ১৭৩৯ সালে কারণালের যুদ্ধে নাদির শাহের বাহিনীর কাছে মুঘলরা পরাজিত হয়। এসময় দিল্লি লুন্ঠিত হয়। পরের শতাব্দীতে মুঘল শক্তি ক্রমান্বয়ে সীমিত হয়ে পড়ে এবং শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের কর্তৃত্ব শুধু শাহজাহানাবাদ শহরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সিপাহী বিদ্রোহের সমর্থনে তিনি একটি ফরমান জারি করেছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহীতার অভিযোগ এনে কারাবন্দী করেছিল। শেষে তিনি রেঙ্গুনে নির্বাসিত হন এবং সেখানেই মারা যান।


ইতিহাস :


বাবর মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন মধ্য এশিয়ার তুর্কো-মঙ্গোল বংশোদ্ভূত শাসক। বাবার দিক থেকে তিনি তৈমুর লং ও মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন।মধ্য এশিয়া থেকে বিতাড়িত হয়ে বাবর ভারতে ভাগ্য নির্মাণে নিয়োজিত হন। তিনি নিজেকে কাবুলের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন এবং আফগানিস্তান থেকে খাইবার পাস হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ের পর বাবরের সেনাবাহিনী উত্তর ভারতের অধিকাংশ এলাকা জয় করে নেযা।তবে শাসন পাকাপোক্ত করতে অনেক সময় লেগে যায়। অস্থিতিশীলতা তার ছেলে হুমায়ুনের সময়ও ছড়িয়ে পড়ে। হুমায়ুন দিগ্বিজয়ী সেনাপতি শেরশাহ কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারত থেকে পারস্যে পালিয়ে যান।হুমায়ুনের সাথে পারস্যের সাফাভিদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্যে পারসীয় সাংস্কৃতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাফাভিদের সহায়তায় হুমায়ুন মুঘলদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। কিছুকাল পর নিজস্ব গ্রন্থাগারে ঘটা এক দুর্ঘটনায় হুমায়ুনের মৃত্যু হলে।তার ছেলে আকবর অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সিংহাসনে বসেন। আকবরের অভিভাবক বৈরাম খান ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি মজবুত করতে আকবরের সহায়তা করেছেন।

যুদ্ধ ও কূটনীতির মাধ্যমে আকবর সাম্রাজ্যকে সবদিকে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। তিনি ভারতের সামাজিক গোষ্ঠীর সামরিক অভিজাতদের থেকে তার প্রতি অনুগত নতুন অভিজাত শ্রেণী গড়ে তোলেন। তিনি উন্নত সরকার ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।আকবর ইউরোপীয় বাণিজ্য কোম্পানিগুলোর সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি করেছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পার্থক্য দূর করার জন্য আকবর দীন-ই-ইলাহি নামক নতুন ধর্ম তৈরি করেছিলেন। তবে এই ধর্ম প্রসিদ্ধ হয়নি। আকবরের ছেলে সম্রাট জাহাঙ্গীর সমৃদ্ধির সাথে শাসন করেছেন। তবে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত ছিলেন। তার রাষ্ট্রীয় কাজে অনীহা দেখে দরবারের প্রভাবশালীরা তার সন্তান খুররম ও শাহরিয়ারের পক্ষ নিয়ে দু'দলে বিভক্ত হয়ে বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহীদের প্রভাবে পড়ে যান জাহাঙ্গীর। অবশেষে খুররম শাহজাহান হিসেবে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন। শাহজাহানের শাসনকাল মুঘল দরবারের জাকজমকের জন্য প্রসিদ্ধ। এসময় অনেক বিলাসবহুল ইমারত নির্মিত হয় যার মধ্যে তাজমহল অন্যতম।এসময় দরবারের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ রাজস্ব আয়ের চেয়ে বেশি ছিল।

বৃদ্ধ সম্রাট অসুস্থ হবার পর তার বড় ছেলে দারা শিকোহ উত্তরাধিকারী হন। সিংহাসন নিয়ে শাহজাহানের ছেলেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্যান্যদের পরাজিত করে শেষপর্যন্ত আওরঙ্গজেব জয়ী হন। দারা শিকোহকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।[মারাত্মক অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করায় আওরঙ্গজেব শাহজাহানকে গৃহবন্দী করেন। আওরঙ্গজেবের সময় মুঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অনেক বৃদ্ধি পায়। তিনি প্রায় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াকে মুঘল সাম্রাজ্যের সরাসরি অধীনে নিয়ে আসেন। ১৭০৭ সালে তার মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের অনেক অংশ বিদ্রোহ করতে শুরু করে। আওরঙ্গজেবের ছেলে প্রথম বাহাদুর শাহ প্রশাসন সংস্কার করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। তবে ১৭১২ সালে তার মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্য বিশৃঙ্খল অবস্থায় পড়ে। ১৭১৯ সালে চারজন দুর্বল সম্রাট পরপর শাসন করেছেন।









Monday, April 21, 2025

মিশর ও সিরিয়ার প্রথম সুলতান এবং আইয়ুবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সালাহুদ্দিন আইয়ুবি

 

আবু নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব  (১১৩৭/১১৩৮ – ৪ মার্চ ১১৯৩) বা (বাংলায় প্রসিদ্ধ নাম) সালাহুদ্দিন আইয়ুবিছিলেন মিশর ও সিরিয়ার প্রথম সুলতান এবং আইয়ুবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। কুদুস ফাতেহী অর্থাৎ জেরুজালেমের (কুদুস রাজ্যে) বিজয়ী, পাশ্চাত্যে তিনি সালাদিন বলে পরিচিত। তিনি কুর্দি জাতিগোষ্ঠীর লোক ছিলেন।শামে ইউরোপীয় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে তিনি মুসলিম প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে তার সালতানাতে মিশর, সিরিয়া, মেসোপটেমিয়া, হেজাজ, ইয়েমেন এবং উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।





রকুহের১১৬৩ সালে তার জেনগি বংশীয় ঊর্ধ্বতন নুরউদ্দিন জেনগি তাকে তার চাচা আসাদউদ্দিন শিরকুহের পাশাপাশি, যিনি জেনগি রাজবংশের একজন কুর্দি ভাড়াটে সেনাপতি ছিলেন, ফাতেমীয় মিশরে প্রেরণ করেন। ক্রুসেডারদের আক্রমণের বিরুদ্ধে সামরিক সাফল্যের মাধ্যমে সালাহউদ্দীন ফাতেমীয় সরকারের উচ্চপদে পৌঁছান। ফাতেমীয় খলিফা আল আদিদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১১৬৯ সালে তার চাচা শেরকোহ মৃত্যুবরণ করলে আল আদিদ সালাহউদ্দীনকে তার উজির নিয়োগ দেন। নেতৃত্বাধীন খিলাফতে মুসলিমদের এমন পদ দেয়া বিরল ঘটনা ছিল। উজির থাকাকালে তিনি ফাতেমীয় শাসনের প্রতি বিরূপ ছিলেন। আল আদিদের মৃত্যুর পর তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফতের আনুগত্য ঘোষণা করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি ফিলিস্তিনে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালান, ইয়েমেনে সফল বিজয় অভিযানের আদেশ দেন এবং উচ্চ মিশরে ফাতেমীয়পন্থি বিদ্রোহ উৎখাত করেন।

১১৭৪ সালে নূরউদ্দিনের মৃত্যুর অল্পকাল পরে সালাহউদ্দীন সিরিয়া বিজয়ে ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব দেন। দামেস্কের শাসকের অনুরোধে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শহরে প্রবেশ করেন। ১১৭৫ সালের মধ্যভাগে তিনি হামা ও হিমস জয় করেন। জেনগি নেতারা তার বিরোধী হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে তারা সিরিয়ার শাসক ছিল। এরপর শীঘ্রই তিনি জেনগি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন এবং আব্বাসীয় খলিফা আল মুসতাদি কর্তৃক মিশর ও সিরিয়ার সুলতান ঘোষিত হন। উত্তর সিরিয়া ও জাজিরায় তিনি আরও অভিযান চালান। এসময় হাশিশীনদের দুটি হত্যাচেষ্টা থেকে তিনি বেঁচে যান। ১১৭৭ সালে তিনি মিশরে ফিরে আসেন। ১১৮২ সালে আলেপ্পো জয়ের মাধ্যমে সালাহুদ্দিন সিরিয়া জয় সমাপ্ত করেন। তবে জেনগিদের মসুলের শক্তঘাঁটি দখলে সমর্থ হননি।

সালাহউদ্দীনের ব্যক্তিগত নেতৃত্বে আইয়ুবী সেনারা ১১৮৭ সালে হাত্তিনের যুদ্ধে ক্রুসেডারদের পরাজিত করে। এর ফলে মুসলিমদের জন্য ক্রুসেডারদের কাছ থেকে ফিলিস্তিন জয় করা সহজ হয়ে যায়। এর ৮৮ বছর আগে ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিন দখল করে নিয়েছিল। ক্রুসেডার ফিলিস্তিন রাজ্য এরপর কিছুকাল বজায় থাকলেও হাত্তিনের পরাজয় এই অঞ্চলে মুসলিমদের সাথে ক্রুসেডার সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সালাহউদ্দীন ছিলেন মুসলিম, আরব, তুর্কি ও কুর্দি সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।১১৯৩ সালে তিনি দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তার অধিকাংশ সম্পদ তিনি তার প্রজাদের দান করে যান। উমাইয়া মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়। সেখানে তার মাজার অবস্থিত।

নেটওয়ার্ক সার্ভার কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে

 


একটি নেটওয়ার্ক সার্ভার কি কি বিষয়ের উপরে কাজ করে সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো। 


১।রিকোয়েস্ট রিসিভ:


নেটওয়ার্ক সার্ভার গুলোর কাজ হচ্ছে সবসময় রিকোয়েস্ট আসছে কিনা সে সম্পর্কে সজাগ থাকা। অর্থাৎ এই সার্ভার গুলো রিকোয়েস্ট রিসিভ করার জন্য সবসময় ওপেন থাকে। রিকোয়েস্টগুলো বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন ফাইল অ্যাক্সেস রিকোয়েস্ট, ই-মেইল রিট্রাইভ রিকোয়েস্ট ইত্যাদি।


২।রিকোয়েস্ট প্রোসেসিং ও রেসপন্সিং:


নেটওয়ার্ক সার্ভার রিকোয়েস্ট রিসিভ করার পর তার প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে প্রসেস করে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, নেটওয়ার্ক সার্ভার একটি ওয়েব পেজ রিকোয়েস্ট যেভাবে হ্যান্ডেল করে একটি ডাটাবেজ রিকোয়েস্ট কিন্তু সে ভাবে হ্যান্ডেল করে না। 

এটি প্রথমে আগত রিকোয়েস্টের ধরণ নির্ধারণ করে তার জন্য প্রযোজ্য প্রোসেসিং পাওয়ার খরচ করে। মূলত একটি নেটওয়ার্ক সার্ভার তার কাছে আসা রিকোয়েস্ট হ্যান্ডেল করার জন্য সার্ভার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্স ব্যবহার করে থাকে। 


৩।রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট :


নেটওয়ার্ক সার্ভার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বলতে উক্ত সার্ভার কীভাবে রিকোয়েস্ট রিসিভ, প্রসেস ও সেন্ড করে থাকে তাকে বোঝায়। কারণ নেটওয়ার্ক সার্ভার সবসময় রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার জন্য রেডি থাকে। যে কারণে একই সাথে অনেকগুলো রিকোয়েস্ট নিয়ে কাজ করতে হয়। 

সার্ভার এই সকল রিকুয়েস্ট তার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাবিলিটির মাধ্যমে গুছিয়ে নেয়। এই সিস্টেমের মাধ্যমে কোন টাস্ক কীভাবে এবং কখন প্রসেস করা হবে তা নিশ্চিত করে যা হার্ডওয়্যার ইউজ স্টাবল রাখতে সহায়তা করে থাকে। 


৪ নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট :


নেটওয়ার্ক সার্ভার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট করার পাশাপাশি IP অ্যাসাইন করা, ডাটার গতিশীলতা ও ডাটার সিকিউরিটি প্রোটোকল মেইন্টেইন করে থাকে। এতে সার্ভারের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ম্যানেজ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। 


Sunday, April 20, 2025

চীনের তৈরি হাসপাতাল বাংলাদেশে ৩ জেলায় হবে এটা বাংলাদেশের জন্য কতটা ইতিবাচক

 

 

“নিশ্চয়ই এটা একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যসেবা হলো মানুষের মৌলিক অধিকার। চীনের মতো প্রযুক্তিতে উন্নত দেশ যদি বাংলাদেশে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন করে, সেটা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, চিকিৎসা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।  

তবে একই সঙ্গে আমাদের দেখতে হবে—এগুলো যেন সত্যিকারের জনগণের কাজে আসে, পরিচালনায় স্বচ্ছতা থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়।”


---

ব্রয়লার মুরগির মাংসে Escherichia albertii নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে

 


বাংলাদেশের মুরগির দোকানে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির মাংসে Escherichia albertii নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। নামটি নতুন মনে হলেও এটি E. coli-এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, আর এর প্রভাব মোটেই কম নয়।


জাপানে ইতিমধ্যেই এই জীবাণুর কারণে একাধিক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে শতাধিক মানুষ একসাথে আক্রান্ত হয়েছে। যদিও আধসিদ্ধ মুরগির মাংসকে এর সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ধরা হয়। তবে  এবার বাংলাদেশের মুরগির মাংসেও এই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছেন জাপানের ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।


গবেষকেরা দেশের চারটি জেলার ১৭টি খুচরা ব্রয়লার মুরগির দোকান থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়া শুধু মাংসেই নয়, কর্মীদের হাত এবং প্রক্রিয়াজনিত যন্ত্রপাতি (যেমন ব্লেড, ব্লিডিং কন)-তেও পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ সংক্রমণের একটি বড় অংশ ঘটছে প্রসেসিং এর সময়েই।


আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো—এই জীবাণুর ৯৪% নমুনা অন্তত একটি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী, এবং প্রায় ৫০% নমুনা ছিল মাল্টিড্রাগ-প্রতিরোধী। অর্থাৎ, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধও এই ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করতে পারছে না।


তাই এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য করণীয় হলো—দোকান থেকে জবাই করে কাটা মাংস না আনা এবং জীবাণু নিষ্ক্রিয় করার জন্য মুরগির মাংস অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করা, অন্তত ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।


তাছাড়া গবেষকেরা বলেছেন—এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই জীবাণু ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা, এবং নিয়মিত মনিটরিং চালুর ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।


এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ফুড মাইক্রোবায়োলজি-তে। 



স্টারলিংক স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে

 


স্টারলিংক মানেই ইন্টারনেট বিপ্লব—বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে। আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো এখনো অনেকটাই অফলাইনে। স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেই ডিজিটাল ডিভাইড কমিয়ে দেবে।  

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা—সবকিছুই আরও সহজে ডিজিটাল হবে।  

তবে এটাও দেখতে হবে, এর খরচ যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এবং সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে।

Saturday, April 19, 2025

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা আমাদের জন্য কতটুকু কল্যাণজনক

 



প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠায় না—তারা বাংলাদেশের গর্ব, আমাদের বৈদেশিক সম্পদ।তারা বিদেশে থেকে শুধু নিজেদের পরিবারের জন্যই নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য কাজ করেন।


আজকে আমরা যখন উন্নয়নশীল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নত দেশের দিকে এগোচ্ছি—তার পেছনে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে—প্রতিবছর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে, অর্থনীতিকে চাঙা রাখে।


তাদের কষ্টের অর্থে তৈরি হয় দেশের হাজার হাজার ঘর, চলে লক্ষ লক্ষ পরিবার। তারা দেশকে ভালোবাসে হৃদয়ের গভীর থেকে, ধরেন যদি শরীরটা বিদেশে থাকে, মনটা থাকে বাংলাদেশেই।


তবে শুধু অর্থনৈতিক না, তারা বিদেশে আমাদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও ভাবমূর্তি বহন করেন। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, পোশাক, ভাষা—সবকিছুই তারা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন।


তাই বলবো—প্রবাসীরা শুধু কল্যাণকর না, তারা আমাদের ‘নীরব বীর’।আমাদের উচিত তাদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো, যেন তারা গর্ব করে বলতে পারে—‘আমি প্রবাসী, আমি বাংলাদেশি।




এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার মতো করে একটা ক্লোন বানানো হচ্ছে

 

তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট—তারা প্রস্তুত আপনাকে ক্লোন করতে!


হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। আপনার দেওয়া ছবি, ভিডিও, ভয়েস, প্রোফাইল ইনফো—সবকিছু তারা সংরক্ষণ করছে। এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার মতো করে একটা ক্লোন বানানো হচ্ছে। হতে পারে সেটা রোবট, হিউম্যানয়েড অথবা ভার্চুয়াল সত্তা।


এই ক্লোন শুধু আপনার চেহারা বা কণ্ঠ নয়—আপনার আবেগ, আচরণ, স্টাইল সব নকল করতে পারবে। এখান থেকেই দাজ্জালের ফিতনা শুরু হবে। 


কীভাবে?


এই ক্লোনের ভেতর মৃত মানুষের জিন/কারিন ঢুকিয়ে তাকে জীবিত মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় তারা কাজ করছে। আপনার প্রিয় কেউ মারা গেছে—হঠাৎ একদিন সেই মানুষটাই দাঁড়িয়ে থাকবে আপনার সামনে! বলবে আপনার পরিচিত ভাষায়, আপনার সুরে—"আমি ফিরেছি..."। 


আপনি হতবাক হয়ে যাবেন। অনেকেই বিশ্বাস করবে, অনেকেই ধোঁকায় পড়বে। যারা বুদ্ধিমান তারা হয়ত ধরে ফেলবে, এটা প্রযুক্তিল খেল। 



কেন এটা সম্ভব?


• AI (Artificial Intelligence)


• Deepfake প্রযুক্তি


• জিন (কারিন)


• রোবট ও ক্লোনড বডি


• আপনার ছবি, তথ্য, ভিডিও প্রায় সবই আজ অনলাইনে। 


• প্রত্যেকের হাতে মোবাইল, সবকিছু ভিডিও হচ্ছে।

• AI + ডেটা + জ্বিন—দাজ্জালের ফিতনাকে বাস্তব করছে। 


• সার্ভার-ভিত্তিক ক্লোনিং এখন বাস্তবতা, কাল্পনিক বিষয় নয়। 


এসব মিলিয়ে ভবিষ্যতে এমন প্রতারক প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে, যা মৃত মানুষকে “জীবিত” বলে মিথ্যে উপস্থাপন করা হবে‌।


_____


কী করা উচিত?


• ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও অপ্রয়োজনে শেয়ার বন্ধ করুন।


• নিজের ও সন্তানদের তথ্য গোপন রাখুন।


• AI-কে খেলাচ্ছলে সব দিয়ে দেবেন না।


• সর্বদা আল্লাহর জিকিরে থাকুন, দোয়া ও ইস্তেগফার করুন।


শেষ কথা, ক্লোনিং বিজ্ঞানের একটি বাস্তব দিক। মানুষের সম্পূর্ণ হুবহু কপি তৈরির চেষ্টা চলছে। আত্মা দেওয়া সম্ভব নয়—এই জায়গাটায় দাজ্জাল জিন/কারিন ব্যবহার করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দাজ্জালের ফিতনার অংশ হতে পারে।




তরুণ সমাজ একটা দেশের জন্য শক্তি না সমস্যা

 


 তরুণ সমাজ একটা দেশের জন্য নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ তারাই সবচেয়ে উদ্যমী, তারা শেখে দ্রুত, তারা পরিবর্তনে বিশ্বাস করে, আর তাদের মধ্যে নতুন কিছু করার সাহস থাকে। আজকের পৃথিবীর যেকোনো সফল দেশ তাকালেই দেখবেন—তাদের তরুণরা শিক্ষিত, স্কিলড এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার।


তবে হ্যাঁ, যখন এই তরুণদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা, কর্মসংস্থান বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায় না—তখন এই শক্তিটা একটা সামাজিক চ্যালেঞ্জ বা সমস্যায় রূপ নিতে পারে। যেমন বেকারত্ব, মাদক, অবসাদ—এসব তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।


তাই তরুণ সমাজ 'সমস্যা' না—তারা শক্তি, যদি আমরা তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি। তারা সমস্যায় পরিণত হয়, যদি আমরা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হই।





তরুণরা যদি দেশ পরিচালনা করে, তাহলে কতটুকু উন্নয়ন হবে

 

তরুণরা যদি দেশ পরিচালনা করে—তাহলে উন্নয়ন শুধু সংখ্যায় না, মানসিকতায়ও হবে। তারা প্রযুক্তি বোঝে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, উদ্ভাবনী চিন্তা করে এবং ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না।


তবে হ্যাঁ, নেতৃত্ব মানে শুধু বয়স নয়—মানেই অভিজ্ঞতা, সহনশীলতা আর দূরদর্শিতা। তরুণদের যদি অভিজ্ঞদের দিকনির্দেশনায় সুযোগ দেওয়া হয়—তাহলে একটা *ব্যালান্সড নেতৃত্ব* তৈরি হবে। ঠিক তখনই আমরা দেখতে পাবো—একটা গতি, একটা সাহস, একটা নতুন বাংলাদেশ।


তরুণরা রাজনীতিতে যুক্ত হলে, দুর্নীতি কমবে, আইডিয়া আসবে, ডিজিটালাইজেশন হবে, প্রশাসন হবে আরও দক্ষ।  

তবে তারা যদি দায়িত্ব না নিয়ে শুধু অভিযোগ করে, তাহলে সুযোগটাই হারাবে।


তাই আমি বলবো—তরুণরা যদি দেশ চালায়, তবে আমরা শুধু উন্নয়ন না—একটা মানবিক, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পাবো।




Sunday, April 6, 2025

সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য তরুণদের কিছু দিক অনুসরণ করা জরুরি

 




বাংলাদেশের তরুণরা যদি ভবিষ্যতে ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্যারের মতো globally recognised এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা একজন মানুষ হতে চায়, তাহলে নিচের কিছু দিক অনুসরণ করা জরুরি:

১. Purpose-Driven জীবন বেছে নেওয়া
  
ড. ইউনুস স্যার শুধুমাত্র নিজের সাফল্য নয়, সমাজের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। তরুণদেরও উচিত জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা—যা শুধু নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের জন্য কিছু করবে।

২. Problem-Solving Mindset গড়ে তোলা
  
ড. ইউনুস স্যার দারিদ্র্য, ঋণ ও সামাজিক অসমতা মোকাবেলায় নতুন ধারণা নিয়ে এসেছেন। তরুণদের উচিত নিজ সমাজের সমস্যা খুঁজে বের করে সেটার টেকসই সমাধান নিয়ে ভাবা। এখন তো SDG সামনে আছেই। সেটা ধরে ধরে অনেক সমস্যা বের করে সমাধানে কাজ করা আরও সহজ। 

৩. শিক্ষা ও জ্ঞানের গভীর অনুশীলন
  
বিশ্বের বেশিরভাগ প্রভাবশালী ব্যক্তিই জীবনে  জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করেছেন। ড. ইউনুস স্যার অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন, গবেষণা করেছেন। তেমনি আমাদেরও পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে।

৪. Impact-Driven Entrepreneurship এ আগ্রহী হওয়া

ড. ইউনুস স্যার Social Business ধারণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যবসা ও সমাজ পরিবর্তন একসাথে করা যায়। তরুণদের উচিত লাভ-ভিত্তিক না হয়ে সমস্যা-ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া।

৫. নেতৃত্ব ও কমিউনিটির বিকাশে মনোযোগ দেওয়া
  
একজন global figure হওয়ার জন্য নেতৃত্বগুণ থাকা জরুরি। তরুণদের উচিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে নিজের নেতৃত্বগুণ গড়ে তোলা।

৬. আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা ও পরিচিতি বাড়ানো
  
ড. ইউনুস স্যার বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। যা এখন বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট এও কাজে লাগাচ্ছেন। আসলে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, স্কলারশিপ, এবং এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া ভবিষ্যতের global leader হওয়ার পথ সহজেই তৈরি করে দেয়।

৭. মানবিকতা ও সততার চর্চা 
 
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মূল্যবোধ। মানবিক চিন্তা, সততা, ও সহানুভূতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর আস্থা অর্জন করা যায়। যেটা ড. ইউনুস স্যার করতে পেরেছেন।

ড. ইউনুস স্যারের মতো Globally Recognised মানুষজন আমাদের আসলেই জরুরি। বিশেষ করে ভবিষ্যতে টিকে থাকতে। আর এজন্য চেষ্টা করতে হবে তরুণদেরই। 

Saturday, April 5, 2025

বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাস

 বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরেরও অধিককালের পুরনো। এই দীর্ঘ ইতিহাসের পেছনে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে সংস্কৃত সাহিত্য, ইসলামি সাহিত্য ও ইংরেজি সাহিত্য। তাছাড়া বিশ্বের অন্যান্য সাহিত্যের প্রভাব এসেছে ইংরেজি সাহিত্যের মাধ্যমে। এ প্রভাবের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিচিত্র রূপে । বাংলা সাহিত্যের স্বকীয় মূর্তি লাভের শুভ মুহূর্তে সংস্কৃতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব যেমন প্রবল ছিল তেমনি পরবর্তীকালে এ সাহিত্যের বিকাশে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি সাহিত্যের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার।




ভূদেব চৌধুরীর মতে, সংস্কৃত সাহিত্যের শ্রেণি-সীমায়ত গগনচুম্বী শিল্পসমৃদ্ধির পাশে প্রাকৃত এবং তজ্জাত বাংলা সাহিত্য ভারতীয় সর্বজনীন সমষ্টিধর্মিতার ঐতিহ্যকে বহন করে জাত ও বর্ধিত হয়েছে। অন্য পক্ষে ইংরেজি সাহিত্যের স্পর্ধিত বিভেদমূলকভাকে যৌবনোচিত শক্তিতে অতিক্রম করে এই বাংলা সাহিত্যই আবার মিলনমূলক সামাজিক আদর্শের অভিমুখী হয়েছে। অথচ বারেবারেই 'দেবভাষা' ও তৎকালীন রাজভাষার স্বী-কৃত।' সেই সঙ্গে মধ্যযুগের বাংলা ফারসি সাহিত্যের প্রভাব স্বীকার করে নেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে অভিনবত্ব। প্রভাব প্রকাশ পেয়েছে নানা আঙ্গিকে । বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এভাবেই হাজার বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনায় কে করে নিয়েছে আয়ত্ত এবং উঠেছে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস। বাঙালির জাতীয় জীবনধারা বরাবর একই খাতে প্রবহমান ছিল না। যুগে যুগে এদেশে সংস্কৃতি ও বাঙালিত্ব ক্রমবিবর্তিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও আন্তর ভাব ও বহিরঙ্গ অবয়বে পরিবর্তন এসেছে। জীবনের মূলীভূত ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতিবিষয়ক নানা প্রভাবের অভিঘাতেই বিবর্তনে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বৈচিত্র্য যখন স্বাতন্ত্রে রূপ নিয়ে বিশেষ বিশেষ সময়ের সীমানায় চিহ্নিত হয় তখনই বিশেষ যুগের পরিচয় ধরা পড়ে। বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগের পেছনে সময়ের বৈচিত্র্য কাজ করেছে। বাংলা সাহিত্যের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্যের অবর্তমানে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল সম্পর্কে সুস্পষ্ট আলোকপাত করা সম্ভবপর নয়। তাই এ ব্যাপারে নানা মুনির নানা মতের সমাবেশ ঘটেছে। বাংলা ভাষার পূর্ববর্তী রূপ অপভ্রংশ থেকে কোন মুহূর্তে এ ভাষা স্বপরিচয়ে চিহ্নিত হয়েছে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা বিতর্কমূলক হলেও সবাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদকেই স্বীকার করেন। তাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস চর্যাপদ থেকে শুরু। কিন্তু চর্যাপদের প্রথম রচনার কাল সম্পর্কেও পণ্ডিতেরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।



পঞ্চদশ শতকে প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য ইউসুফ-জোলেখা রচনা করেন।

মধ্যযুগের অন্যতম বিশিষ্ট নিদর্শন অনুবাদ সাহিত্য। পনের শতকের শেষার্ধে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় তার সভাকবি কৃত্তিবাস ওঝ কর্তৃক সংস্কৃত রামায়ণের বঙ্গানুবাদের মাধ্যমে এ ধারার সূত্রপাত এবং মহাভারতের ভাগবতের অনুবাদের মাধ্যমে তা সম্প্রসারিত হয়। মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণ বিজয়, কাশীরাম দাসের মহাভারত এ পর্যায়ের বিশিষ্ট গ্রন্থ । তবে সুলতান হোসেন শাহের সেনাপতি পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর প্রথম মহাভারত অনুবাদ করেন যা ''পরাগলী মহাভারত" নামে পরিচিত। পরাগল খাঁর ছেলে ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীকর নন্দী ছুটি খানি মহাভারত রচনা করেন।

মধ্যযুগের বিরাট পরিসর জুড়ে মঙ্গলকাব্যের উদ্ভব ঘটেছিল। দেবদেবীর * এই কাব্যধারার সূত্রপাত হয় পনের শতকে।



Friday, April 4, 2025

সাইকোলজির মতে ভালোবাসা কি?



সাধারণত, ভালোবাসা বলতে একটি তীব্র আকর্ষণ এবং মানসিক সংযুক্তির অনুভূতিকে বোঝায়। ভালোবাসাকে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয়ই মনে করা হয়। এর গুণগুলো মানুষের উদারতা, সহানুভূতি এবং স্নেহের প্রতিনিধিত্ব করে যেমন অন্যের ভালোর জন্য নিঃস্বার্থ থাকা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করা।


খাওয়ার ব্যাপারে জাপানের বেশ কয়েকটি নিয়ম-কানুন

 




বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপরে গবেষণা চালিয়ে গবেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপানিরা অনেক বেশিদিন বাঁচে। কিন্তু জাপানিদের এই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার কারণ কি?জাপানিদের দীর্ঘায়ুর রহস্য কী? এই নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্নের অন্ত নেই।



জাপানিরা কিন্তু বলেন তাঁদের দীর্ঘ আয়ুর পিছনে আলাদা কোনও রহস্য নেই। রয়েছে নিয়মানুবর্তী জীবনচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তার সঙ্গে বেশ কিছু নিয়মানুবর্তিতা জাপানি মানুষদের দীর্ঘ বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। চাইলে আপনিও জাপানিদের মতো খাবার খাওয়ার পদ্ধতি রপ্ত করতে পারেন।




  ১।  ৮০ শতাংশের নিয়ম :

পেট যেই মাত্র ৮০ শতাংশ পূর্ণ হচ্ছে, তখনই খাওয়া থামিয়ে দেওয়া উচিত সে দেশের পরিভাষায় এই বিশেষ অভ্যাসটিকে বলা হয় ‘হারা হাচি বু’। বিজ্ঞানীদের মতে এতে পরিপাকতন্ত্র ভাল থাকে। আর এই পদ্ধতি জাপানের প্রায় সব মানুষই মেনে চলেন।




২। অল্প অল্প করে খান :

 একসঙ্গে অনেকটা খাবার না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে খান। একই রকম খাবার সব সময় না খেয়ে কখনও সবজি, কখনও মাছ-মাংস, কখনও বাদাম জাতীয় খাবার খেতে পারেন। অর্থাৎ বারে বারে ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রোটিনযুক্ত উদ্ভিদ এবং ভিটামিন ও ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে পারেন।




৩। ফারমেন্টেড খাবার :

জাপানিরা বেশ কিছু ফারমেন্টেড খাবার খান, যেমন ফরমেন্টেড সয়াবিন না নাট্টো, মিসো, বিভিন্ন আচার। এই ধরনের খাবার পেটের উপকারি ব্যাকটিরিয়াগুলিকে ভাল রাখে, বিপাক হার বাড়ায়, ফলে ওজন বাড়ে না। এছাড়াও শরীরে ফ্যাট আসে এরকম কোন খাবাররা জাপানিরা খুব একটা গ্রহণ করেন না।




৪।  ইকিগাই :

 ইকিগাই জাপানি একটি জীবনযাপন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বলা হয়, এমনি এমনি কোনও কাজ না করে কাজের নেপথ্যের কারণ অনুধাবনের চেষ্টা করুন। এবং যেটা করছেন সেটা একাগ্রতার সঙ্গে করা উচিত। খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভি না দেখে খাবারের উপরেই মনোযোগ দেন জাপানিরা। শুধুমাত্র খাবার খাওয়াই নয় সমস্ত কাজই জাপানেরা মন দিয়ে করে থাকেন।



৫। মরশুমি ফল ও সবজি :

 জাপানিরা টাটকা খাবার খেতে খুবই পছন্দ করেন। যে মরশুমে যে ফল এবং শাকসবজি পাওয়া যায় সেটাও খেতে পছন্দ করেন তাঁরা। হিমায়িত করা শাকসবজি এবং প্রক্রিয়ায় যত খাবার ত্যাগে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। বাসি খাবার জাপানিরা খুব একটা পছন্দ করেন না।


কাজী নজরুল ইসলামের ২০টি অজানা তথ্য

 

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ছিল বৈচিত্র্যময় ও বহুবর্ণিল। তাঁর জীবন, সাহিত্য ও ব্যক্তিত্বের অনেক দিক আমাদের অনেকেরই অজানা। নজরুল-গবেষকদের লেখা বিভিন্ন বই ও পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করা এমনই ২০টি তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো, যেগুলো হয়তো আপনি আগে জানতেন না।


১. নিয়মের গণ্ডিতে বাঁধা ছিলেন না


নজরুলের জীবন ছিল স্বাধীনচেতা। যখন যা ভালো লাগত, তিনি তা-ই করতেন। দিন-রাতের হিসাব না করে হঠাৎ করেই বন্ধুদের বাড়িতে হাজির হয়ে যেতেন, চলত আড্ডা আর গান।


২. লেখার জন্য বিশেষ পরিবেশের প্রয়োজন হতো না


গাছতলায় বসে যেমন লিখতে পারতেন, তেমনি ঘরোয়া বৈঠকেও তাঁর কলম চলত অবিরাম।


৩. রঙিন পোশাক পরার পেছনে যুক্তি


নজরুল ঝলমলে রঙিন পোশাক পরতে ভালোবাসতেন। কারণ হিসেবে তিনি বলতেন, "রঙিন পোশাক পরি অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।"


৪. ছিল অসাধারণ পাঠাভ্যাস


তিনি কোরআন, গীতা, বাইবেল, বেদ, ত্রিপিটক, মহাভারত, রামায়ণ পড়তেন। একই সঙ্গে শেলি, কিটস, কার্ল মার্ক্স, ম্যাক্সিম গোর্কির রচনাও ছিল তাঁর পাঠ্যতালিকায়। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’-এর সব গান ছিল তাঁর মুখস্থ!


৫. বাংলার সবচেয়ে বহুমুখী গীতিকার


নজরুল সব ধরনের বিষয়ে গান লিখেছেন। যদিও অনেকে তাঁর গানের সংখ্যা ৪,০০০ বলে, তবে প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৮,০০০, যার অধিকাংশ সংরক্ষিত হয়নি।


৬. ছিলেন চূড়ান্ত রসিক


নজরুলের কথায় হাসির ঝড় উঠত। একবার এক মহিলা তাঁকে স্মার্টলি জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি পানাসক্ত?" নজরুল উত্তর দিলেন, "না, বেশ্যাসক্ত!" মহিলাটি চমকে গেলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন, "পান বেশি খাই, তাই বেশ্যাসক্ত (বেশি+আসক্ত)!"


৭. নজরুলের প্রেমে পড়েননি, এমন মানুষ কম


কবি বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, "আমি প্রথম নজরুলকে দেখেই তাঁর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম!" আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর স্ত্রী প্রতিভা বসুও নজরুলের প্রেমে পড়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি ‘আয়না’ নামে একটি গল্প লিখেছেন।


৮. প্রচুর পান ও চা খেতেন


লিখতে বসার আগে এক থালা পান ও প্রচুর চা নিয়ে বসতেন। তাঁর উক্তি ছিল—

"লেখক যদি হতে চান, লাখ পেয়ালা চা খান!"


৯. ছিলেন দক্ষ হস্তরেখাবিশারদ


তিনি মানুষের হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলে দিতেন। এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, "আপনার বিদেশযাত্রা আছে," এবং কিছুদিন পরেই সে বিদেশ চলে যায়!


১০. রাগলে বই-খাতা ছিঁড়ে ফেলতেন


রাগান্বিত হলে হাতের কাছে যা পেতেন, তাই ছিঁড়ে কুচি কুচি করে ফেলতেন।


১১. অর্থের ব্যাপারে ছিলেন বেহিসাবি


হাতে টাকা এলেই বন্ধুদের নিয়ে আনন্দে উড়িয়ে দিতেন। বলতেন, "আমি আমার টাকা বন্ধুদের জন্য খরচ করছি। ওদের হলে ওরাও আমার জন্য খরচ করবে!"


১২. সন্তানদের নাম বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে


তাঁর দুই পুত্রের ডাকনাম ছিল সানি (কাজী সব্যসাচী) ও নিনি (কাজী অনিরুদ্ধ), যা রাখা হয়েছিল সান ইয়াত-সেন ও লেনিনের নামে।


১৩. সন্তানদের প্রতি অসীম ভালোবাসা


তিনি নিজ হাতে ছেলেদের খাওয়াতেন এবং ছড়া কাটতেন—

"সানি-নিনি দুই ভাই, ব্যাঙ মারে ঠুই ঠাই!"


১৪. ছিলেন প্রকৃত জনদরদি


একবার দরিদ্র এক হিন্দু মেয়ের বিয়েতে তিনি নিজে বাজার করে দিয়ে কন্যাদান করেছিলেন।


১৫. কবিতা ও গানের স্বত্ব বিক্রি করে গাড়ি কেনেন


নজরুল তাঁর লেখা বিক্রি করে বিলাসবহুল ক্রাইসলার গাড়ি কিনেছিলেন, যা সে সময়ের সবচেয়ে দামি গাড়িগুলোর একটি ছিল।


১৬. বিলাসবহুল প্রমোদভ্রমণ করতেন


তিনি মাঝেমধ্যে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরা ভাড়া করে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন।


১৭. ছিলেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন


তিনি অন্ধকারেও বহুদূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পেতেন।


১৮. ছিলেন অসম্ভব ক্রীড়াপ্রেমী


ফুটবল খেলায় তিনি এতটাই মগ্ন থাকতেন যে, একবার খেলা দেখতে গিয়ে নিজের দুই ছেলেকে হারিয়ে ফেলেন এবং সারা মাঠে চিৎকার করে ডাকতে থাকেন—

"সানি কোথায়? নিনি কোথায়?"


১৯. ছিলেন দক্ষ দাবাড়ু


যেদিন বিশেষ কোনো কাজ থাকত না, সেদিন তিনি দাবা খেলায় মগ্ন থাকতেন।


২০. মাঠের খেলাতেও ছিল নজরুলের উত্তেজনা


ছেলে সানি একবার ক্রিকেট খেলায় ছক্কা মারলে তিনি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পরের বলেও ছক্কা মারতে বললেন! কিন্তু সানির ব্যাট উইকেটকিপারের মুখে গিয়ে লাগল, আর খেলা বন্ধ হয়ে গেল!

সিএসই কাদের পড়া দরকার

 সৃজনশীল কাজে যাঁদের আগ্রহ আছে, তাঁদের জন্য সিএসই অনেক বড় একটা সুযোগ তৈরি করে দেয়। অ্যানিমেশন, বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনের মতো সৃজনশীল কাজ করতে সিএসই  বা যেকোনো বিষয়েই পড়া যেতে পারে। যারা সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসেন, দীর্ঘক্ষণ জটিল কোনো বিষয়ে ডুবে থাকতে আনন্দ পান, সিএসই পড়লে তাঁদের এ ধরনের চর্চা করার সুযোগ হবে।


বৃষ্টির জন্য নবিজি (সা.) যে দোয়া করেছিলেন



বৃষ্টির জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সে দোয়াটি কী?


হজরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কতিপয় লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) ক্রন্দনরত অবস্থায় এলে তিনি দোয়া করলেন-


اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ ‏



উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাসক্বিনা গাইছান মুগিছান মারিয়ান মারিআন নাফিআন গাইরা দাররিন আঝেলান গাইরা আঝেলিন।’


নদীর পাড়ে

নদীর পাড়ে বসে আজ, চুপচাপ দেখি স্রোতের খেলা, হৃদয়ের মাঝে জমে থাকা কথা, বয়ে যায় যেন সময়ের ভেলা। হাওয়ার ছোঁয়ায় দোলে মন, প্রকৃতি গায় নীরব গান, জ...