মনোবিজ্ঞান পৃথিবীতে মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক বিজ্ঞান হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীতে এমন কোন বিজ্ঞান নেই যার সাথে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক নেই। পৃথিবীতে মনোবিজ্ঞানে যে সমস্ত ক্ষেত্র রয়েছে তা অন্য কোন বিজ্ঞান নেই বললেই চলে।
★ নিম্নে মনোবিজ্ঞানের ব্যাপক বিস্তৃত ক্ষেত্রসমূহ আলোচনা করা হল-
১। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান : মানুষের হতাশা, ব্যর্থতা, দ্বন্দ্ব প্রভৃতি কারনে মানুষের আচরণে যখন অস্বাভাবিক দেখা যায়, তখন তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের দরকার হয়। মনোবিজ্ঞানীরা মানসিক রোগীর চিকিৎসা জন্য চিকিৎসক, প্যাথলোজি মনোচিকিৎসা ও থেরাপি গ্রহন করেন।
২।কাউন্সেলিং : কাউন্সেলিং শব্দের অর্থ হল উপদেশ দান বা পরামর্শ দান। মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা উন্নত করার জন্য এ ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হয়। সাধারণত সামাজিক বিশৃঙ্খলা, বুদ্ধি নির্বাচন, শিল্প সংকট, পারিবারিক উশৃংখলা ও বিরোধ নিরসনে মনোবিজ্ঞানীরা কাউন্সিলিং করে থাকে।
৩।শিল্প মনোবিজ্ঞান : মানুষের জীবনে একটি বৃহত্তর উপদান শিল্প। মনোবিজ্ঞানীরা শিল্পক্ষেত্র শ্রমিকদের সন্তুষ্টি বিধানের চেষ্টা করে এবং মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে সহায়তা করে। শিল্পক্ষেত্রে যে সমস্ত মানসিক দূরত্ব, দৈন্যতা এবং প্রতিযোগিতা দেখা যায় তা নিরসন করতে মনোবিজ্ঞান বিশেষভাবে সহায়তা করে।
৪। প্রকৌশল মনোবিজ্ঞান : প্রকৌশল শব্দের অর্থ হলো কলা কৌশল। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন প্রকৌশলগত জ্ঞান মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় এবং মনোবিজ্ঞানীরা ও মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন কর্মপন্থা ও কর্মকৌশল গ্রহন করে। সাধারণত মানুষের সাথে যন্ত্রের গতিসম্পর্ক এবং যন্ত্রের কুফল থেকে মানুষের রক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত ।
৫। শিক্ষা : মনোবিজ্ঞান ছাত্রশিক্ষক সম্পর্ক, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থী, শ্রেণি কক্ষের পরিবেশ, শিক্ষাদানের পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে। স্কুল মনোবিজ্ঞানীদের কাজ হল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা করা, তাদের অসুবিধাসমূহ দূরীকরণে সাহায্য করা, সুপারামর্শ দেওয়া ইত্যাদি।
৬। সামাজিক ক্ষেত্র : সমাজবিজ্ঞান সমাজের রীতি নীতি, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় যা সমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করে এবং এর ফলে পরিবেশের সাথে মানুষের মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করে।
৭। বিকাশ : মানুষ বা প্রাণী বিকাশের বিষয়ে মনোবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা রয়েছে এর মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানীরা মানুষ বা প্রাণীর আবেগ, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, বিষয়ে অনুধানের সুযোগ লাভ করে।
No comments:
Post a Comment