জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) জন্ম ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬, বগুড়া, বাংলাদেশ মৃত্যু ৩০ মে ১৯৮১, চট্টগ্রাম ( হত্যাকান্ড)
★ জীবন ও সামরিক ক্যারিয়ার:
তিনি বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন, শিক্ষাজীবনের শুরু ঢাকায়, এরপর পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলেন, পরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
★মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা:
২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে *স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন:
“আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি…”
তিনি জেড ফোর্স' নামের একটি সেক্টর বাহিনী গঠন করে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
বীর উত্তম" খেতাব পান যুদ্ধকালীন সাহসিকতার জন্য।
★স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়:
- বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে তিনি সামরিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
- *বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)* প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৮ সালে।
★রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতি:
জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় সহনশীলতা, ও গ্রামীণ উন্নয়নকে প্রাধান্য দেন।
“গ্রাম হবে শহর” – এই স্লোগানে গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করেন।
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে কাজ করেন।
★মৃত্যু:
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
★উত্তরাধিকার:
তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তীতে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন।
★দেশের জন্য জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান
১।মুক্তিযুদ্ধে সাহসী নেতৃত্ব:
২৬ মার্চ ১৯৭১ ভোরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধে “জেড ফোর্স” গঠন করে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন।
তার সাহসিকতার জন্য “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন।
★ রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা:
-১৯৭৫-৭৭ এর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় রাষ্ট্রের হাল ধরেন।
- আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক ভারসাম্য ফেরাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
৩. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) প্রতিষ্ঠা:
- ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করে গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি নতুন ধারা সূচনা করেন।
- বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেন।
৪. গ্রাম হবে শহর” – গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি:
- শহরের সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেন।
- কৃষি, মৎস্য, পল্লী বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর দেন।
৫. বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্য রক্ষা:
- ভারতের পাশাপাশি চীন, যুক্তরাষ্ট্র, মুসলিম বিশ্বসহ বহু দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেন।
- ওআইসি ও নিরপেক্ষ জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সক্রিয় করেন।
৬. গণমাধ্যম ও তথ্য সম্প্রসারণ:
- রেডিও-টিভির পরিসর বাড়ানো, সরকারি মিডিয়ায় সংস্কার ও তথ্য প্রবাহ সহজ করেন।
৭. প্রশাসনিক দক্ষতা ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান:
- “সিপাহি-জনতা ঐক্য” এর মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনতে চেয়েছিলেন।
- দুর্নীতি দমন ও স্বনির্ভরতা অর্জনে নানা পদক্ষেপ নেন।
No comments:
Post a Comment